ইসলামিক২৪.কম

ইসলামিক২৪.কম

মুহাররম মাসের ফাজায়েল ও মাসায়েল

  • পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছে - 28 August, 2020, Friday
  • 80 বার দেখা হয়েছে
  •  

     মাওলানা নাদিম আহমদ আনসারী।।

    সম্মানের কারনে মুহাররম মাসকে মুহাররম বলা হয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন আল্লামা সাখাওয়ী রহ.। কিন্তু আমার (লেখক)মতে এই নামের কারণ হলো, এমাসের পবিত্রতার উপর জোর দেওয়া।

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা মহররম মাসের রোজা। (মুসলিম শরিফ) এই হাদীসটি পুরো মুহররমের ফজিলতকে প্রমাণ করে। (আল-কাওকাব আল-দারি) এছাড়াও হযরত ইবনে আব্বাস রা. সূরা ফজরে ‘ওয়াল-ফজর’ আয়াত সম্পর্কে বলেছেন, এ আয়াতের দ্বারা উদ্দেশ্য ‘মহররম মাসের প্রথম তারিখের ফজর। যার থেকে আরবি বছর শুরু হয়।’ হযরত কাতাদাহ রা. থেকেও এমন একটি বর্ণনা রয়েছে। যদিও এর মধ্যে অনেক মতোভেদ রয়েছে। (আল জামিয়ুল আহকামুল কুরআন লিল-কুরতুবী)

    মুহররম মাস ইসলামি বছরের প্রথম মাস। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করার পর থেকে আল্লাহ তা’আলার নিকট বারো মাস রয়েছে। আল্লাহর কিতাবে বছরের বারো মাস লিখিত রয়েছে। যার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। ( সুরা:তাওবাহ)

    মহররম মাসে রোজার ফজিলত: 

    হজরত নুমান ইবনে সা’দ হজরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করলো যে, আপনি আমাকে রমজান বাদে কোন মাসে রোজা রাখার আদেশ দিবেন? হজরত আলী (রা।) বললেন: আমি একজনকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। আর সে সময় আমি তাঁর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। ঐ ব্যক্তি আরজ করল: হে আল্লাহর রাসূল! রমজান বাদে আপনি আমাকে কোন মাসে রোজা রাখার আদেশ করেন? রাসুল সা. তাকে বললেনঃ তুমি যদি রমজানের ছাড়াও রোজা রাখতে চাও, তবে মুহররমের রোজা রাখো। কেননা এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিনে মহান আল্লাহ তায়ালা এক কওমের তাওবা কবুল করেছিলেন এবং ঐ দিনেই তিনি অন্য এক কওমের তাওবা কবুল করবেন। (তিরমিযী)

    আশুরার রোজা রাখার ফজিলত ও আহকাম:

    ১০ই মহররমকে আশুরা বলা হয়। হজরত আবু কাতাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেছিলেন, আশুরার রোজা গত এক বছরের পাপের কাফফারা। (মুসলিম শরীফ)

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন রোজা রাখাকে নিজের আমলের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং মুসলমানদেরকেও এমন করার আদেশ করেছিলেন। তখন কয়েকজন সাহাবি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই দিনটিকে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা একটি ধর্মীয় দিন হিসেবে উদযাপন করে (যেন এটি তাদের জাতীয় এবং ধর্মীয় নিদর্শন) এবং বিশেষত আমাদের এই দিনে রোজা তাদের সাথে সামঞ্জস্য ও সাদৃশ্য হয়ে যায়। তবে এ আমলে কি এমন কোনো পরিবর্তন হতে পারে? যারপর তাদের সাথে সাদৃশ্যতা আর থাকবে না? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইনশাল্লাহ, পরের বছর এলে আমরা নবম মহররমও রোজা রাখবো।

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, পরের বছর মহররম মাস আসার আগেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। (মুসলিম শরীফ)

    এটাও স্মরণ রাখা উচিত যে, এইসব রেওয়ায়েতে যে গুনাহ ক্ষমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা দ্বারা উদ্দেশ্য সগিরা গুনাহ। তবে এর সাথে কবিরা গুনাহের ক্ষমার আশা রাখাও উচিত। তবে এই হাদীসগুলির অর্থ এই নয় যে, এর ওপর ভরসা করে গুনাহ করবে। যদি নিজের পাপের জন্য অনুশোচনা করে এবং গুনাহ পরিহার করার চেষ্টা করে, তবে ইনশাআল্লাহ এব্যাপারে আল্লাহ সহায়ক হবেন।

    আশুরার দিন পরিবার পরিজনের জন্য কাজ করার বরকত:

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবার-পরিজনের জন্য রোজগার করে, আল্লাহ তাআলা সারা বছর তার রিজিকে বরকত দান করেন। (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব)

    আশুরা সম্পর্কে ফকীহ ও আলেমদের বক্তব্য:

    এ কারণে ফকীহগণ লিখেছেন যে, মুহাররমের দশ তারিখের সাথে তার আগে বা পরে অর্থাৎ নয় বা এগারো তারিখেও রোজা রাখা মুস্তাহাব। এবং কেবল আশুরার রোজা রাখা মাকরূহে তানজিহি। কেননা এতে ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য হয়। (শামী) তবে হজরত মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নোমানী লিখেছেন যে, আমাদের সময়ে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আশুরার দিন রোজা রাখে না। বরং তারা কোনো কাজই চন্দ্র মাস অনুযায়ী করে না । ফলে বর্তমানে তাদের সাথে সাদৃশ্যতার কোনো প্রশ্নই আসে না। সুতরাং সাদৃশ্যতা দূর করতে নবম বা একাদশতম দিন রোজা রাখার দরকার নেই। (মাআরিফুল হাদিস)

    আশুরার দিন কি করা উচিত ?

    আশুরা উপলক্ষে মানুষ একই জাতীয় বহু ধ্বংসাত্মক কাজের উদ্ভাবন করেছে। আল্লামা ইবনে তাইমিয়াহ বলেন যে, এ সম্পর্কে মহানবী সা. থেকে কোন সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়নি। কোনো সাহাবি থেকেও কোনো আছার বর্ণিত হয়নি। চার ইমাম ও অন্যান্য আলেমগণসহ কারো থেকেই ঐ সমস্ত কাজকে মুসলমানদের জন্য মুস্তাহাব হিসাবে বিবেচনা করা যায় এমন বর্ণনা নেই।

    মহানবী সা. ও তাঁর সাহাবিগণ এবং তাবেয়ীদের কাছ থেকে এ সম্পর্কে কোন সহিহ বা দুর্বল কোনো বর্ণনা নেই। সহিহ হাদিসের কিতাবে বা সুনান হাদিসের কোনো কিতাবে এর উল্লেখ নেই। এবং খায়েরুল কুরুনের থেকে এরূপ কোন বর্ণনা পাওয়া যায়নি। (মাজমাউল ফতোয়া) সুতরাং উপরোক্ত বর্ণিত বিবরণ থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে শরিয়ত আশুরার বিষয়ে দুটি বিষয় বর্ণনা করেছে:(১) রোজা রাখা (২) পরিবারের রুজির জন্য প্ররিশ্রম করা। তবে যেহুতু হযরত হুসাইন রা. এর শাহাদাতের ঘটনা এদিনে সংঘটিত হয়, যা ইতিহাসের একটি মর্মান্তিক ঘটনা। সুতরাং ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন পড়া যেতে পারে। তা ছাড়া এই দিনটিতে উক্ত কারণে ভিন্ন কোনো আমলের আদেশ দেওয়া হয়নি। (ফতুয়ায়ে রহিমিয়াহ তারতিবিস সালেহ)

    আসরে হাজির অবলম্বনে আব্দুর রহমান শরীয়তপুরী

    
    এই পোস্টে কোন মন্তব্য নেই!

    একটি মন্তব্য করুন


    অ্যাকাউন্ট প্যানেল

    আমাকে মনে রাখুন

    সকল বিভাগ