ইসলামিক২৪.কম

ইসলামিক২৪.কম

আল্লাহর রসূলের শানে অবমাননা এবং আমাদের কর্তব্য

  • পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছে - 16 August, 2020, Sunday
  • 81 বার দেখা হয়েছে
  •  

    মাওলানা আবদুর রশীদ তালহা নোমানী ।।

    পৃথিবীর ধর্ম ও মতবাদগুলোর নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, ইসলামই একমাত্র শান্তি ও নিরাপত্তার অগ্রদূত। সুখ ও সমৃদ্ধির পতাকাবাহী। এজন্যই মুসলমানদের বিশ্বাস হলো সকল নবী-রসূল সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন। বরং ইসলামে তো সমস্ত নবীর প্রতি ঈমান ও বিশ্বাস স্থাপনও অপরিহার্য।

    ইসলাম উদারতার এতটাই দাবিদার যে, সে নিজ অনুসারীদেরকে অবিশ্বাসী-মূর্তিপূজক এমনকি তাদের মিথ্যা উপাস্যদেরকেও অকারণে নিন্দা করতে পরিষ্কার নিষেধ করে। জীবনের প্রতিটি বাঁকে ইসলাম ন্যায়, ভারসাম্য ও মহানুভবতার শিক্ষাদান করে। কিন্তু যেসব জাতি ও সম্প্রদায় ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে তারা নানান অপকৌশলে ইসলামের দুর্নাম রটাতে, ইসলামের স্বভাবজাত আইন ও আদর্শের উপর বাজে আপত্তি করতে এবং পৃথিবীর সামনে ইসলামের পবিত্র অবয়বকে বিকৃত করে উপস্থাপনে সর্বদা অপচেষ্টায় লিপ্ত।

    এই উদ্দেশ্যে কখনো মুসলমানদের উপর সন্ত্রাসের অপবাদ আরোপ করা হয়। কখনো অপমানজনক চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। কখনো এমন গেমস তৈরি করা হয় যার দ্বারা ইসলামের শিআর ও পবিত্র প্রতীকসমূহকে তাচ্ছিল্য হয়। এবং সর্বোপরি ঐ পবিত্র ও মহান ব্যক্তিত্বের শানে অবমাননার মাধ্যমে মনুষ্যত্বের এমন জঘন্য পরিচয় প্রকাশ করা হয়, যা পশ্চিমা ধৃষ্ঠ মানসিকতা এবং বল্গাহীন স্ংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।

    এদিকে মাতৃভূমি ভারত যেখানে একসময় হিন্দু-মুসলিমের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বাগান ছিল, তা এখন সাম্প্রদায়িক বিশৃংখলায় জর্জরিত। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি নিজেদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে হিন্দু-মুসলিম বিভেদের রাজনীতিকে বেছে নিয়েছে। ফলে তাদের সবসময়ের টার্গেট হচ্ছে মুসলিম-অমুসলিমের মধ্যে ঘৃণার দেয়াল দাঁড় করিয়ে দেওয়া। এ উদ্দেশ্যে তারা ধর্মের আবরণে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আল্লাহর রসূলের শানে অবমাননাও যার অন্যতম পলিসি।

    তেমনই একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেলো সম্প্রতি বেঙ্গালুরে। এই তো কয়েকদিন আগে (১২ আগস্ট) বেঙ্গালুরে নবীন নামের এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শানে অবমাননা করে মুসলমানদের অনুভূতিতে চরম আঘাত করে। এনডিটিভির সূত্রমতে কর্নাটক অ্যাসেম্বলির সদস্যের এক আত্মীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল্লাহর রসূলের শানে অবমাননাকর পোস্ট করেছিল। পোস্টটি ভাইরাল হতেই জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর উত্তেজিত জনতা সংসদ সদস্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুর করে এবং সেখানে থাকা গাড়িকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ‘গুলি করতে বাধ্য হয়’ বলে পুলিশের দাবি। গুলিতে তিনজন প্রাণ হারায়। গুলিবর্ষণ প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার তার সাফাইতে বলেছেন, পুলিশের উপর বড় বড় পাথর দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল। চারদিক থেকে থানা আক্রমণ করা হচ্ছিল। সেজন্য পুলিশের কাছে গুলি চালানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। পরিস্থিতির নাজুকতা ও তীব্র প্রতিবাদ লক্ষ্য করে ঐ এলাকায় কারফিউ জারি করা হয় এবং ১১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী পুলিশের আচরণ জনতাকে আরো ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। কারণ, যখন  অ্যাসেম্বলি সদস্যের ঐ আত্মীয় ধৃষ্টতামূলক পোস্টটি করে , তখন কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয় জনগণ পুলিশের নিকট অভিযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করার পরিবর্তে তাদেরকে নিজেরা পরস্পরে বসে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেয়। এতে জনগণ ফুঁসে ওঠে এবং তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা স্বরূপ ঐ বেয়াদপকে গ্রেফতার করুন।

    মনে রাখতে হবে, আল্লাহর রসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম-এর শানে অবমাননার এটাই প্রথম কোনো ঘটনা নয়। ইসলামের শত্রুরা প্রিয় রসূলের শানে কখনোই নিজেদের নিচুতা ও নিকৃষ্ট স্বভাবের পরিচয় দিতে কোনো ত্রুটি করেনি। মধ্যযুগে দামেশকীয় যোহন (৭০০-৭৫৪ খ্রি.) সেই প্রথম হতভাগ্য যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে অপবাদ ও মিথ্যাচার করে।  তারপর অধিকাংশ প্রাচ্যবিদ সেসব অপবাদেরই পুনরাবৃত্তি করে গেছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে যদি বিগত কয়েক বছরের ইতিহাসকে সামনে রাখা হয় তাহলে বুঝা যাবে যে, রসূল অবমাননা একশ্রেণির কট্টরপন্থী অমুসলিমের একটি ঘৃণ্য আচরণ। যার প্রকাশ থেমে থেমে করা হয়। উদ্দেশ্য ইসলামের অনুসারীরা যেন উত্তেজিত হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

    রসূল অবমাননা, এক অব্যাহত অপরাধ

    আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা ইসলামের প্রাণ। আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য ঈমানকে পূর্ণতা দান করে। আল্লাহ ও রসূলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ইসলামের মূলভিত্তি এবং মুসলমানের মৌলিক পরিচয়। প্রিয় রাসূলের মর্যাদার সংরক্ষণ এবং রসূলের শ্রেষ্ঠত্বের বিশ্বাস কোটি মুসলিমের শিরা-উপশিরায় রক্তের ন্যায় প্রবহমান এমন দুর্দমনীয় শক্তি, যা নবুওতের উৎসর্গী ও রিসালাতের আশেকদের দৃষ্টিতে পরিপূর্ণ ঈমানের পরিচয়চিহ্নরূপে বিবেচিত। পক্ষান্তরে এই মহামূল্য সম্পদ এবং ধরাপৃষ্ঠের সর্বোচ্চ দামি এই অনুভূতিটিই প্রতারিত পশ্চিমাদের নজরে অসুস্থ আবেগমাত্র।

    একারণেই আজ ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ, ইসলামি শিক্ষার প্রতি ঘৃণা, মুসলিম সভ্যতা-সংস্কৃতি নিয়ে উপহাস, মুসলমানদেরকে অবদমিত করে রাখা, তাদের ওপর সবধরনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উন্মত্ততা, মুসলিম দেশগুলোর প্রযুক্তি ও উপকরণের মূলোৎপাটন বা নিয়ন্ত্রণকরণ, মুসলিম যুবকদেরকে ইসলামের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করতে এবং মুরতাদ ও ধর্মত্যাগের পথে পরিচালিত করতে অহর্নিশ প্রচেষ্টা, মুসলিম দেশগুলোর রাজনীতি সুসংহত করার বিরুদ্ধে নীলনকশা এবং এধরনের অসংখ্য অপকৌশলের আশ্রয়ে ইসলামের শত্রুরা শুধু মুসলমানদের জানমালেরই ক্ষতি করছে না, বরং ব্যাপক পরিসরে তাদের দ্বীনী কর্মকাণ্ড, সাংস্কৃতিক অবস্থান এবং ধর্মীয় চরিত্রকেও ধ্বংস করছে।

    যেমনটি উপরের বিবরণ থেকে বুঝা গেল, বেশ কিছুদিন যাবত ইসলামের শত্রুরা তাদের এই পলিসি গ্রহণ করেছে যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্তরালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিত্ব ও গুণাবলিকে টার্গেট করা। প্রিয়নবীর সুমহান সত্ত্বাকে বিতর্কিত করতে নিত্য-নতুন চক্রান্তের জাল বুনা। অবমাননাকর কার্টুন, ফিল্ম, ছবি, বই এবং লিফলেটের ব্যাপক আয়োজন করে গোটা মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ভয়ংকর উসকানি ছড়িয়ে তাদেরকে সহিংসতা, আইনভঙ্গ এবং স্বাধীন প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করতে বাধ্য করা। আর পরিশেষে নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃংখলা রক্ষার মতো পরিভাষাগুলোর অজুহাতে গৃহযুদ্ধ, সহিংসতা, দাঙ্গা এবং গ্রেফতার ও বন্দিত্বের এক অনিঃশেষ ধারাক্রম আরম্ভ করা। যাতে মুসলমানরা যাঁতার দুইকলের মাঝখানে পিষ্ট হয়ে যায়। না পারে এদিকে যেতে, না পারে ওদিকে।

    এমনিতো অনুগ্রহকারীকে হত্যা করার মতো জঘন্য অপরাধ ও ধৃষ্ঠতার কলঙ্ক মানব ইতিহাসে সবসময় ছিল। পাপিষ্ঠ হতাভাগারা তো নিজের বাবা-মাকেও নির্যাতন করেছে। নিজের শুভাকাঙ্খী, কল্যাণকামী, শিক্ষাগুরু ও অভিভাবকদের সঙ্গেও শত্রুর মতো আচরণ করেছে। খোঁজ করলে এজাতীয় বহু ঘটনা সব জাতি ও ধর্মে মিলে যাবে। এই হিসেবে ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিত্ব কুলাঙ্গার-খোদাদ্রোহিদের প্রথম টার্গেট ও নিশানা নন। যেমনটি ইনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার (১৯৮৪) প্রবন্ধকার লিখেছেন, ‘খুব কম মানুষের ক্ষেত্রে এত বিষোদগার হয়েছে যতটা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে করা হয়েছে। মধ্যযুগের খ্রিস্টানরা তার ব্যক্তিত্বের প্রতি সব ধরনের অপবাদ আরোপ করেছে।’ এ হিস্ট্রি অব মিডওয়াল-এর গ্রন্থকার জি. জি. সেন্ডারস লেখেন, ‘এ সত্যকে অস্বীকার করা সম্ভব নয় যে, আরবের পয়গম্বরকে খ্রিস্টানরা কখনো সহানুভূতি ও ভালো দৃষ্টিতে দেখেনি। তাদের নজরে হযরত ঈসার ব্যক্তিত্বই শ্রদ্ধেয় ও আদর্শ ছিল। ক্রুসেড যুদ্ধের সময় থেকে আজ পর্যন্ত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিতর্কিতভাবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং তার সম্পর্কে আগাগোড়া রূপকথা ও ভিত্তিহীন কাহিনী প্রচার করা হচ্ছে।’

    জরুরি কিছু কর্তব্য:

    এখন প্রশ্ন হলো  এধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের কী করণীয়- যাতে সত্যিকার অর্থে আমরা শরীয়তের বিধি-নিষেধ মেনে প্রিয় রসূলের সম্মান রক্ষা করতে পারি? আমরা যদি সত্যিই মুসলমান হই এবং শরীয়তের গণ্ডিতে থেকে নবুওত ও রিসালাতের তাজ সুরক্ষিত করতে চাই, তবে আমাদের আইনি প্রচেষ্টার পাশাপাশি কিছু বিষয়ের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

    এক. ইসলামি শিক্ষার পরিপূর্ণ অনুসরণ। অনৈসলামিক চিন্তা-ধ্যানধারণা, অভ্যাস, রীতিনীতি, সভ্যতা, সংস্কৃতি, সমাজব্যবস্থা ও রাজনীতি ইত্যাদি সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে। বিশেষ করে ফ্যাশনপূজা এবং বস্তুবাদী চিন্তা-চেতনাকে পূর্ণ সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে বর্জন করতে হবে। সহজ-সরল জীবনযাপন করতে হবে। এটাই সর্বপ্রথম করণীয়। কিন্তু এটা বাদ দিয়ে উম্মত অন্য শরীয়তবিরোধী পদ্ধতি গ্রহণ করছে।

    দুই. আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সকল মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইউ.এন.ও কে এমন আইন প্রণয়ন করতে বাধ্য করতে হবে, যার মধ্যে আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম-এর অবমাননাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকবে।

    তিন. পশ্চিমা বিশ্বের যারা এসকল নিকৃষ্ট ও নাপাক কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতা করে তাদেরকে কিছু উচিত শিক্ষা দেওয়া। যেমন,

    ক) মুসলমানরা পশ্চিমা পণ্য পরিপূর্ণ বয়কট করা।

    খ) ডলার, ইউরো এবং পাউণ্ডের মাধ্যমে লেনদেন ত্যাগ করে এগুলোর মান কমিয়ে দেওয়া।

    গ) সারা পৃথিবীতে ইসলাম ধর্ম এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যিকার পরিচয় তুলে ধরা।

    চার. প্রতিটি ঘরে ইসলাম এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা-আদর্শ এবং সীরাত অধ্যয়ন ব্যাপক করতে হবে।

    পাঁচ. নামাযের পরিপূর্ণ পাবন্দি করতে হবে।

    ছয়. জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর রসূলের সুন্নত জেনে আমল করতে হবে।

    সাত. বেদআত ও কুসংস্কার থেকে সম্পূর্ণ বেঁচে থাকতে হবে।

    আট. সাহাবায়ে কেরামের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের জীবনী অধ্যয়ন করতে হবে।

    নয়. ওলামায়ে কেরামের প্রতি মুহাব্বত এবং সকল দ্বীনী ও দুনিয়াবি বিষয়ে তাদের রাহনুমায়ী গ্রহণ করতে হবে।

    দশ. আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আখলাক ও উত্তম গুণাবলি পড়ে নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

    এগার. মানুষকে সীরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সীরাতের শিরোনামে প্রতিযোগিতা ইত্যাদির মাধ্যমে সীরাত চর্চা করতে হবে।

    মোটকথা, আমাদের সকলের যার যার সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহর রসূলের সম্মান রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।

    ভাষান্তর: সাইফ নূর

    সূত্র, ইসলাম টাইমস

    
    এই পোস্টে কোন মন্তব্য নেই!

    একটি মন্তব্য করুন


    অ্যাকাউন্ট প্যানেল

    আমাকে মনে রাখুন

    সকল বিভাগ