ইসলামিক২৪.কম

ইসলামিক২৪.কম

পড়াশোনার স্বার্থে জন্মনিয়ন্ত্রণ, ইসলামের নির্দেশনা

  • পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছে - ২৭ জুলাই, ২০২০, সোমবার
  • 99 বার দেখা হয়েছে
  •  

    মুফতি তারেক মাস‌উদ ।।

    বিবাহের পর পড়াশোনার খাতিরে সন্তান না নেয়া জায়েজ আছে। কোন গুনাহ হবে না। তবে ইসলামে এটা পছন্দনীয় নয়। কারণ, আপনি তো এখন শুধু পড়াশোনার উপকারের কথা চিন্তা করছেন। কিন্তু ইসলাম তো আরো গভীর বিষয় নিয়ে চিন্তা করে। আপনার এবং সমাজের কল্যাণের কথা চিন্তা করে।

    এটা আমি স্বীকার করি যে, নারীদের‌ও শিক্ষার প্রয়োজন আছে। কিন্তু অতটা নয়, যতটা তার সন্তানের প্রয়োজন। যদি দেরিতে সন্তান নেয়, তাহলে দু’টি ক্ষতি। এক তো হলো অনেক সময় আর সন্তান‌ই হয় না। এটা আপনার সাধ্যে নেই যে, যখনি চাইবেন সন্তান জন্ম দিবেন। এটা আপনার সবচেয়ে বড় ভুল। আমি এরকম দম্পতির কথা জানি, যারা শুরুলগ্নে জন্মনিয়ন্ত্রণ করেছেন। পরবর্তীতে অনেক আকাঙ্ক্ষার পর‌ও আর সন্তান হয়নি। তাই এটা অনেক বড় ভুল। আমরা মনে করি যে, যখনি চাইবো হয়ে যাবে।

    দ্বিতীয়ত: সন্তান যদি দেরিতে হয়, তাহলে মহিলাদের জন্য তার লালন পালন অনেক কঠিন হয়ে যায়। আপনার জন্য এটাই উত্তম হবে যে, আপনার যৌবনকালেই আপনার সন্তান যুবক হয়ে যাবে। তৃতীয় কথা হলো, সন্তান নেয়া পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়। আমার কাছে তো ইউরোপ-আমেরিকা থেকেও মানুষ আসে। আমি তাদেরকে ওখানকার অবস্থা জিজ্ঞেস করি। তারা বলে, সেখানকার ইউনিভার্সিটিগুলোতে গর্ভবতী নারীরাও পড়াশোনা করে। গর্ভকে কোন অসুখ মনে করা হয় না। গর্ভের সাথে সাথে সবকিছুই হতে পারে। পড়াশোনাও করতে পারে। হ্যাঁ, নির্দিষ্ট সময়ে কিছু দিনের জন্য শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর এটা তো সাধারণ মানুষের‌ও হয়।

    আশ্চর্যের বিষয় হলো, মেডিকেল সাইন্সের বক্তব্য হলো গর্ভাবস্থায় নারীরা অন্যান্য অনেক রোগ হতে বেঁচে থাকে। গর্ভাবস্থায় কিছু পেরেশানি তো হয়, কিন্তু সে যদি মনে করে যে, যদি আমি জন্মনিয়ন্ত্রণ করি তাহলে পুরো নয় মাস আমার শরীর ভালো থাকবে, বিষয়টি এমন নয়। তখন অন্যান্য রোগ আক্রমণ করবে। এটি একটি বিষয় যে, গর্ভাবস্থায় যদিও কিছু কষ্ট হয়, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আরো অনেক রোগ হতে নারীদেরকে রক্ষা করেন। তাই এই ধারণাই ভুল যে, গর্ভবতী মহিলারা কিছুই করতে পারে না। সবকিছুই করতে পারে। পড়াশোনাও করতে পারে।

    আরেকটি বিষয় হলো, জন্মনিয়ন্ত্রণ করার জন্য যেসব ঔষধ সেবন করা হয়, তা তো মারাত্মক ক্ষতিকর। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ এক ডাক্তারের সাথে আমার সাক্ষাত হয়েছে। আমি তাকে বললাম, “আপনার কাছে যে সমস্ত ক্যান্সারের রোগী আসেন, তাদের ক্যান্সারের কারণ কী থাকে?” তিনি বললেন, “যে সমস্ত মহিলারা ক্যান্সার আক্রান্ত হন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই হলো যারা জন্মনিয়ন্ত্রণের ঔষধ সেবন করেন। যেই মহিলারা জন্মনিয়ন্ত্রণের ঔষধ সেবন করেন, তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই পড়াশোনার জন্য সন্তান দেরিতে নেয়া জায়েজ হলেও এই বিষয়গুলো ভেবে দেখবেন। তবে এরপরও আমি বলবো যে, পড়াশোনার জন্য বিয়ে না করার চেয়ে উত্তম হলো আপনি পড়াশোনায় রত অবস্থায় বিয়ে করে জন্মনিয়ন্ত্রণ করুন। কিছু কিছু লোক আছেন, যারা বলেন যে, আমি পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করবো। ভাই! এরচেয়ে ভালো হল আপনি বিয়ে করে নিন এবং সন্তান দেরিতে গ্রহণ করুন। এটাই আপনার জন্য ভালো।

    অনুবাদ: শাহাদাত হুসাইন

    
    এই পোস্টে কোন মন্তব্য নেই!

    একটি মন্তব্য করুন


    অ্যাকাউন্ট প্যানেল

    আমাকে মনে রাখুন

    সকল বিভাগ