ইসলামিক২৪.কম

ইসলামিক২৪.কম

লকডাউনের সময়ে আলেমদের প্রতি মুফতী তাকী উসমানীর মূল্যবান নির্দেশনা

  • পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছে - ৫ জুলাই, ২০২০, রবিবার
  • 139 বার দেখা হয়েছে
  •  

    (ভারতের জামিয়া ইশাআতুল ইসলাম আক্কেলকুয়ার উদ্যোগে জামিয়ার শিক্ষকবৃন্দ এবং পৃথিবীর
    বিভিন্ন দেশের গবেষক খ্যাতিমান আলেমদের নিয়ে আয়োজিত একটি অনলাইন কর্মশালায় বিশেষ
    অতিথি হিসেবে শায়খুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী দা.বা. মূল্যবান নির্দেশনা
    প্রদান করেন। তারিখ : ৭ জিলকদ ১৪৪১ হিজরী, ২৯ জুন ২০২০। ইসলামিক২৪.কমের পাঠকদের জন্য বয়ানটি তুলে ধরা হল)

    মুফতী তাকী উসমানী।।

    আমরা তো অধিকাংশ সময় দরস-তাদরিস নিয়েই ব্যস্ত থাকি। এ সময়ে সবকের প্রতি খুবই গুরুত্ব দেয়া হয়। যে কারণে বাইরের কিছু মুতালাআ করা কঠিন হয়ে থাকে। অন্য কিছু করাও সম্ভব হয় না। করোনা তো একটি মসিবত, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা সবকিছুর মধ্যেই কিছু কল্যাণকর দিকও সৃষ্টি করেন, কিছু অকল্যাণকর দিকও।
    এই অকল্যাণের মধ্যেও তিনি আমাদেরকে এ কল্যাণ দান করেছেন— এতে আমাদের হাতে অনেক সময় এসেছে।

    লকডাউনে দরস-তাদরিসের বাইরে  এমন অনেক কাজ, যা আমরা সাধারণ পরিস্থিতিতে দরস-তাদরিসের ব্যস্ততার কারণে করতে পারি না, সেসব কাজ করার তিনি তৌফিক দিচ্ছেন। আমি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করছি—করোনার লকডাউনের সময়টুকুতে (যদিও এখন আমাদের পাকিস্তানে লকডাউন নেই) আল্লাহ তায়ালা আমাকে সফর থেকে মুক্ত রেখেছেন। এর মধ্য দিয়ে আল্লাহ আমাকে অনেক কাজ করার তৌফিক দিয়েছেন, যেগুলো ইতিপূর্বে করা হয়ে উঠে নি, এখন হচ্ছে।

    আপনারা তো মাশাআল্লাহ উলামায়ে কেরাম। আলেমদেরকে নসিহত করার মতো যোগ্যতা আমার নেই। আপনাদের ইলমও তাজা। আপনাদেরকে আমি কী নসিহত করব? তবে বুজুর্গদের কাছ থেকে যা কিছু শুনেছি তার আলোকে কিছু কথা বলব।

    জীবনের মুহূর্তগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত

    জীবনের মুহূর্তগুলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বড় এক আমানত। আমার সম্মানিত পিতা হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী সাহেব রহ. বলতেন : মানুষের উচিত, জীবনের মুহূর্তগুলো মেপে মেপে কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা, চাই সেটা হালাল পন্থায় কোনো পার্থিব উপকার হোক, কিংবা পরকালের জন্যে উপকারী হোক। সময় নষ্ট করা অনেক বড় গোমরাহি। এটা বড়ই অন্যায়। আলহামদুলিল্লাহ, আপনারা এ দিকে মনোনিবেশ করেছেন যে, এ সময়গুলোকে সঠিক কোনো মাকসাদে ব্যয় করবেন।

    যুগ সম্পর্কে অবগতি থাকা জরুরি। এখনকার সময়ে উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। আপনারা তো এ কথা জানেন—من لم يعرف أهل زمانه فهو جاهل অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজের সময়ের মানুষ সম্পর্কে জানে না সে আসলে অজ্ঞ। অর্থাৎ সে তার ইলম সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে না।

    এ সময়ে আমরা যেসব পরিস্থিতির কারণে অস্থির, যেসব চিন্তাধারা, যেসব বিভ্রান্তি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে আছে, সেসব বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ অবগতি লাভ করা আমাদের জন্য জরুরি। পাশাপাশি এমন পন্থা সম্পর্কেও আমাদের জানা থাকতে হবে, যা মানুষের মনে দাগ কাটবে।

    كلموا الناس على قدر عقولهم

    মানুষের সঙ্গে তাদের জ্ঞানানুযায়ী কথা বলো। তাই এ বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভূত হচ্ছে—আমাদের উলামায়ে কেরাম আধুনিক যুগের যাবতীয় গোমরাহি সম্পর্কে অবগত হবেন এবং সাধারণ মানুষকে সেখান থেকে উদ্ধার করার জন্যে এমন পদ্ধতি সম্পর্কেও জানবেন, যা তাদেরকে সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারে। এজন্য যদি কোনো ট্রেনিং-এর প্রয়োজন হয়, কোনো প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়, তবে তাও অবলম্বন করা উচিত।

    দরস-তাদরিসের বাইরে অন্যান্য বিষয় শেখা

    যারা সাধারণত দরস-তাদরিস নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, এমন অনেক বিষয় আছে যা তাদের জানা নেই। এ সময়ে তারা সেসব বিষয় শিখে নিতে পারেন। এতে ইনশাআল্লাহ অনেক উপকার হবে। যেমন, আধুনিক দর্শন অর্থনীতি কিংবা রাষ্ট্রনীতি। এসব বিষয় জেনে আত্মস্থ করে যদি বাতিল মতবাদ খণ্ডন করা হয় তবে তা অধিক ফলপ্রসু
    হবে।

    দাওয়াত ও তাবলীগের জন্যে অনলাইন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা

    একইভাবে এ সময়ে নিজের দাওয়াত, তাবলীগ ও পাঠদানের প্রচার-প্রসারের জন্য যেসব পন্থা আছে সেগুলোও এ বিবেচনায় অবলম্বন করা উচিত—এতে এখনকার মানুষ প্রভাবিত হতে পারে। যেমন, এখন লকডাউনের সময় চলছে। অনেক কাজ অনলাইনে হচ্ছে। অনলাইন মিটিং হচ্ছে। অনলাইনে ক্লাসও হচ্ছে। তাই এ বিষয়গুলোও কীভাবে অনলাইনে করা যায়, কীভাবে নিজের কথাকে অধিক পরিমাণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়, তাও শেখা উচিত।

    আমি নিজেও এক ব্যক্তি থেকে এবং কখনো নিজের ছেলেদের থেকেও অনলাইনে কাজের পদ্ধতি শিখে নিই। খুবই ভালো কথা, আপনারা এজন্যে সময় বের করে নিয়েছেন।

    মুতালাআর পরিধি বৃদ্ধি

    এর পাশাপাশি নিজের পাঠের পরিধিও বাড়াতে হবে। এ প্রসঙ্গে হযরত মাওলানা সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. এর কিতাবাদি খুবই উপকারী হবে। যেমন, মুসলিম মামালিক মে আলামে ইসলাম আওর মাগরিবিয়্যাত কি কাশমাকাশ, ইনসানী দুনিয়া পর মুসলমানূ ক্যা উরুজ ওয়া যাওয়াল কা আছার, মা যা খসিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমীন।

    এসব গ্রন্থ মানুষকে নিজের উৎস সম্পর্কে সজাগ করে। তাই এসময় চিন্তার বিশুদ্ধতার জন্যে এগুলো পড়া উচিত। এসব পড়ে শক্তি অর্জন করে দাওয়াতের জন্যে বের হলে কিংবা নিজের বক্তৃতা কিংবা লেখার মাধ্যমে দীনের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের বিবেচনায় তা অত্যন্ত ফলপ্রসু প্রমাণিত হবে।

    সব কাজেই ইখলাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লক্ষ্য থাকতে হবে

    আমি দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা আপনাদের এ ব্যবস্থাপনা কবুল করুন। একে অত্যন্ত উপকারী বানিয়ে দিন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর দীনের খেদমতের জন্য কবুল করুন। ইখলাসের সঙ্গে দীনের ওপর আমল করার তৌফিক দিন। ইখলাসই সকল কাজের প্রাণ। যে কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে করা হয়, যেখানে নিজের প্রসিদ্ধি লক্ষ্য থাকে না, এমন ইখলাস নিয়ে মাশাআল্লাহ আপনারা কাজ করে যাচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ
    দুনিয়া ও আখেরাতে এর ফল অত্যন্ত সুন্দর হবে। আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা আপনাদের এ ব্যবস্থাপনাকে কবুল করুন। একে উপকারী বানিয়ে দিন। আমাদের সবাইকে তাঁর দীনের খেদমতের জন্যে কবুল করুন।

    وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين

    অনুবাদ: মাওলানা শিব্বীর আহমদ

    সূত্র: ইসলাম টাইমস

    
    এই পোস্টে কোন মন্তব্য নেই!

    একটি মন্তব্য করুন


    অ্যাকাউন্ট প্যানেল

    আমাকে মনে রাখুন

    সকল বিভাগ