ইসলামিক২৪.কম

ইসলামিক২৪.কম

দ্বীন মানতে হীন মনোভাব কেন?

  • পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছে - ২৪ জুন, ২০২০, বুধবার
  • 161 বার দেখা হয়েছে
  •  

    মুহাম্মাদ তাওহীদুল ইসলাম তায়্যিব ।।

    ইসলাম আল্লাহ তাআলার মনোনীত একমাত্র দ্বীন। হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওতের পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সকল যুগের সকল দেশের সকল বর্ণ ভাষা ও রুচি প্রকৃতির মানুষের জন্য অবশ্য পালনীয় ধর্ম হলো ইসলাম। একথা পরিস্কারভাবে বিবৃত হয়েছে কুরআন মাজীদে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

    إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ

    নিশ্চয় আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন কেবলই ইসলাম।-সূরা আলে ইমরান (৩), আয়াত : ১৯

    অন্যত্র বলেন,

    وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

    যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন অবলম্বন করতে চাবে, তার থেকে সেই দ্বীন কবুল করা হবে না। আর সে আখিরাতে যারা মহা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।- সূরা আলে ইমরান (৩), আয়াত ৮৫

    একথা যৌক্তিক এবং স্বাভাবিক যে, যে ধর্ম কিয়ামত পর্যন্ত সকল যুগের সকল অঞ্চলের সকল বর্ণ ভাষা ও রুচি প্রকৃতির মানুষের জন্য অবধারিত, তা কত নিখুঁত ও নিপুণ এবং কত সংহত ও ব্যাপক হওয়া উচিত। নিঃসন্দেহে পৃথিবীর ¯্রষ্টা এবং সকল মানুষের খালিক ও মালিক যিনি, এই দ্বীন তাঁর পক্ষ থেকে। একমাত্র তাঁর পক্ষেই সম্ভব সবার উপযোগী দ্বীন নাযিল করা। ফলে আজ চৌদ্দশ বছর ধরে পৃথিবীর নানা অঞ্চলের, নানা বর্ণ ভাষা ও স্বভাব প্রকৃতির মানুষ ইসলাম মেনে চলছে এবং চলতে পারছে। এরপর স্বীকৃত বাস্তবতা হলো, এই দ্বীন মেনে মানুষ যতটা সুখ ও প্রশান্তির সাথে জীবন যাপন করছে, অন্য কোনোভাবে তা পারছে না।

    এই দ্বীন-ইসলামে মানব জীবনের সকল ক্ষেত্রের সুষ্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বিখ্যাত সাহাবী হযরত সালমান ফারসি রাযিয়াল্লাহু আনহুর একটি ঘটনা এ বিষয়ের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সাহাবী হযরত সালমান ফারসি রাযি.কে একদল মুশরিক ব্যঙ্গ করে একদিন বলছিল,

    لقد عَلَّمَكم نبيُّكم كلَّ شيءٍ حتَّى الخِراءَةَ؟!

    তোমাদের নবী তো সবকিছু শিক্ষা দেয়। এমনকি প্রস্রাব পায়খানা কিভাবে করতে হয় সেগুলোও!!

    হযরত সালমান ফারসি রাযি. বললেন,

    أجل، لقد نهانا -صلَّى الله عليه وسلم- أن نَستَقبِلَ القِبلَةَ بغائِطٍ أو بَولٍ، وأن لا نَستَنجِيَ باليمين، وأن لا يَستَنجِيَ أحَدُنا بأقَلَّ من ثلاثةِ أحجارِ، أو نَستَنجِيَ برَجيعٍ أو عَظمٍ

    হ্যাঁ। তিনি আমাদেরকে কিবলামুখী হয়ে প্রস্রাব পায়খানা করতে নিষেধ করেছেন। ডান হাতে ইস্তিঞ্জা (পানি ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতা অর্জন) করতে নিষেধ করেছেন। আরও নিষেধ করেছেন যেন আমরা তিন ঢিলার কম ব্যবহার না করি। নিষেধ করেছেন গোবর ও হাড্ডিকে ঢিলা হিসাবে ব্যবহার করতে।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং : ৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৩১৬

    এখানে হযরত সালমান ফারসী রাযি.কে যে বিষয়ে বিদ্রুপ করা হচ্ছিল, তিনি সে বিষয়কেই শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসাবে পেশ করলেন। এই ঘটনার মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত সকল মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। কোনো মুমিন মুসলমান যেন দ্বীনের কোনো বিষয়কে হালকা মনে না করে। দ্বীনের প্রতিটি বিষয়ে যেন কুরআন ও সুন্নাহ অভিমুখী হয়। দ্বীন মানার ক্ষুদ্রতম প্রসঙ্গেও যেন কারো কোনো তাচ্ছিল্য অবজ্ঞার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে। বরং জীবনের সকল ক্ষেত্রে দ্বীনের শিক্ষাকে গ্রহণ করা ও মানার মধ্যেই যেন নিজের সফলতা ও শ্রেষ্ঠত্ব অনুভব করে।

    চিরসত্য বাস্তবতা হলো, মানব জীবনের অতি ছোট থেকে ছোট এবং ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দেশ ও বৈশ্বিক পর্যায়ের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচে জটিল কঠিন বিষয়েও ইসলামের সুষ্পষ্ট, সর্বোৎকৃষ্ট এবং সুউপযোগী শিক্ষা, সমাধান ও বিবরণ রয়েছে। আর এই দ্বীন যেহেতু কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মানুষের জন্য এবং তা মানব জাতির স্রষ্টার পক্ষ থেকে নির্ধারিত, সুতরাং তাতেই প্রকৃত কল্যাণ ও দুনিয়া আখিরাতের সফলতা নিহিত। একথা বিশ্বাসে যেমন বদ্ধমূল হতে হবে, তেমনি আমল আচরণেও তার সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটতে হবে। আর এই প্রকাশ হতে হবে সৌভাগ্য ও গর্বের অনুভূতির সঙ্গে। ইসলাম মানা বা মানতে পারা নিঃসন্দেহে গর্বের। এতে হীনম্মন্যতা বা সংকোচ অনুভব করার কোনো বিষয় নেই। অমূলক সভ্যতার কল্পিত ধারণা বিশ্বাসে আবর্তিত ব্যক্তি-সমাজে ইসলামের নির্দেশনা মানতে লুকোচুরি বা হীন মনোভাব পোষণ করার কোনো কারণ নেই। ইসলাম মানার সৌভাগ্য অনুভূতি ধারণ করেই জীবনের সকল ক্ষেত্রে দ্বীন মানার শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

    অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তথাকথিত সভ্য সমাজে দ্বীনদারি রক্ষা করে চলা ব্যক্তি ও পরিবার কেমন যেন কোণঠাসা ভাব অনুভব করে। নিজের চেতনা বিশ্বাস ও কর্মরীতিকে লুকিয়ে পালন করা কিংবা হীন মনোভাব নিয়ে পালন করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। সবার সামনে যেন নিজের এই আচার পদ্ধতি প্রকাশ না পেলেই ভালো। যেন এটা নিজের অসম্মান ও নিম্নশ্রেণিতার প্রমাণ। দ্বীন মানার এ অবস্থা প্রকাশ পেয়ে গেলে কেমন যেন অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যার আশ্রয়ে নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ ও দুর্বলতা জাহির করা হয়। একজন মুমিনের জন্য যা মোটেও শোভনীয় নয়। মুমিনের তো উচিত দ্বীন মানতে পারাকে গর্বের বিষয় মনে করে পশ্চিমা সভ্যতার আত্মীয় পরিজনদেরকে বুঝানো। অন্তত নিজের ভেতর যে সৌভাগ্যের অনুভূতি আছে তা প্রকাশ করা। হীনম্মন্যতা ও নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করা কিংবা দ্বীন মানাকে দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা মনে করার কী কারণ? কী যুক্তি? মুমিনের ঈমান তো তার শক্তির উৎস। তার সৌভাগ্যের সুউচ্চ মিনার।

    
    এই পোস্টে কোন মন্তব্য নেই!

    একটি মন্তব্য করুন


    অ্যাকাউন্ট প্যানেল

    আমাকে মনে রাখুন

    সকল বিভাগ