ইসলামিক২৪.কম

ইসলামিক২৪.কম

যেভাবে কাটাতে পারি আসন্ন রমজান

  • পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছে - ২৪ এপ্রিল, ২০২০, শুক্রবার
  • 164 বার দেখা হয়েছে
  •  

    সাইফুল্লাহ সুবহান।।

    দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল একটি বছর। নিকটবর্তী হল রমজান। এ মাস র‌হমত মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। পুরো মাস জুড়ে দিনের বেলা রোজা রাখাকে আল্লাহ তায়ালা ফরজ করে দিয়েছেন। যাতে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি।

    রোজা ফরজ হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরতের এক বছরেরও বেশি সময় পরে। অর্থাৎ দ্বিতীয় হিজরী সনে। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বছরের মতো পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন। মোট নয়টি রমজানে রোজা পালন করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

    তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে রোজার মাস যাপন করেছেন বা করতে বলেছেন তাই আমাদের আদর্শ। তাই আসন্ন রমজান কিভাবে কাটাতে পারি সে ব্যাপারে জেনে  নেই নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রমজানের কর্মসূচি।

    ১. রোজা: রোজা হলো রমজানের প্রধান আমল। রোজার পুরস্কার অসীম। আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে দিবেন। আবার শরয়ীত সম্মত সমস্যা ছাড়া রোজা না রাখার শাস্তিও ভয়াবহ।

    ২. সেহরি: রোজা রাখার উদ্দেশ্যে ভোর রাতে খাবার খাওয়ার নাম সেহরি। সেহরি খাওয়া সুন্নত।
    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেহরিতে এক চুমুক পানি হলেও পান করতে বলেছেন। আরো বলেন,যারা সেহরি খায় ও পান করে তাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা রহমত করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য উত্তম দোয়া করেন। (মুসনাদে আহমদ) তবে কখনো সেহরি না খেতে পারলে এই অজুহাতে রোজা না রাখা কিছুতেই বৈধ নয়।

    ৩. ইফতার করা: সূর্য ডোবার পর রোজা সমাপ্ত করার জন্য যে পানাহার তাই ইফতার। খেজুর, কিসমিস বা পানি দিয়ে ইফতার করা উত্তম। সূর্য ডোবার পর ইফতার করতে দেরি না করা উত্তম ও সওয়াবের কাজ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন মনুষ ততদিন পর্যন্ত কল্যাণের পথে থাকবে যতদিন পর্যন্ত তারা শীঘ্র শীঘ্র ইফতার করে। ( মিশকাত : ১৯৭৯ )

    ৪. ইফতার করানো: রোজাদারকে ইফতার করানো খুবই উত্তম কাজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায় তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়, জাহান্নাম থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয় এবং সে রোজদারের সমপরিমাণ সওয়াব পায় আর রোজাদারের সওয়াবও কম করা হয় না। (মিশকাত:১৯৬০)

    ৫. তারাবীহ: তারাবীহ পড়া সুন্নত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারাবীকে সুন্নত করে দিয়েছেন। ( ওসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম সা: পৃ:২৬৮) তারাবীহতে কুরআনুল কারীম ধারাবাহিকভাবে তিলাওয়াত করা বা শোনাও সুন্নত।(বেহেশতী গাওহার)

    ৬. কুরআন তিলাওয়াত: রমজান কুরআন নাজিলের মাস। কুরআনের সম্মানেই এ মাসের সম্মান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য মাসের তুলনায় কুরআনের তিলাওয়াত এ মাসে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতেন।

    ৭. কুরআনের দাওর করা: দাওর মানে পরস্পরকে শুনানো। প্রতি রমজানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং জিবরাঈল আলাইহিসসালাম একবার পূর্ণ কুরআন দাওর করতেন। তবে জীবনের শেষ রমজানে দুবার দাওর করেছেন। ( বুখারী:৪)

    ৮. কুরআন বোঝর চেষ্টা: কুরআন হলো মানুষের কাছে আল্লাহর পয়গাম, বান্দার প্রতি প্রভূর চিঠি। কী আছে এই চিঠিতে তা জানা অন্তত জানতে চেষ্টা করা সবার কর্তব্য। আর রমজানেই যেহেতু এর প্রেরণের সূচনা তাই এ মাসই তা বুঝতে সচেষ্ট হওয়ার উত্তম সময়।

    ৯. নফল ইবাদত: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে বেশি বেশি নফল ইবাদত করতেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রমজানের একটি নফল অন্য মাসের একটি ফরজের সমতুল্য। ( মিশকাত:১৯৬০)

    ১০. রাত্রি জাগরণ: রাত-জাগা ইবাদত আল্লাহর খুবই প্রিয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব মাসেই রাত জেগে ইবাদত করতেন। তবে রমজানে এর পরিমাণ বেড়ে যেতো বহুগুণ।

    ১১. শবে কদর তালাশ: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তোমরা শবে কদর তালাশ করো। হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন রমজানের শেষ দশক শুরু হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমর কষে নিতেন। সারা রাত ইবাদত,যিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকতেন। – বুখারী।

    ১২. পরিবারকে ইবাদতে উৎসাহ দান: হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের লোকজনকেও জাগিয়ে দিতেন,যাতে তারাও এসব রাত্রির বরকত লাভ করতে পারে। – বুখারী।

    ১৩. কর্মচারীর চাপ কমানো: রমজান উপলক্ষ্যে কর্মচারী বা অধিনস্তদের কাজের চাপ কমানো উচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এ মাসে যে ব্যক্তি তার অধিনস্তদের কাজ হালকা করে দিবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন। (শুআবুল ইমান; বায়হাকি)

    ১৪. দান সদকাহ করা: দানশীলতা নবী চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সব সময়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভাবি অসহায়দের দান সদকা করতেন। আর রমজানে এর পরিমাণ বেড়ে যেতো বহুগুণে। তাঁর রমজানের দানকে হাদীসে কল্যাণবাহী প্রবল বায়ুর সাথে তুলনা করা হয়েছে। ( বুখারী )

    ১৫. এতেকাফ: রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করা সুন্নত। হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওফাত পর্যন্ত সর্বদা রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন।( মিশকাত হা: নং ২০৯২)

    এই হল নবিজীর রমজানের কর্মসূচি। এ কর্মসূচি অনুযায়ী আসন্ন  রমজান যাপন করলে আশা করা যায় আমরা তাকওয়ার নেয়ামত লাভ করতে পারবো। আল্লাহ তায়ালাই কল্যাণকর কাজের তাওফীক দাতা।

    
    এই পোস্টে কোন মন্তব্য নেই!

    একটি মন্তব্য করুন


    অ্যাকাউন্ট প্যানেল

    আমাকে মনে রাখুন

    সকল বিভাগ