ইসলামিক২৪.কম

ইসলামিক২৪.কম

শিক্ষাবিদদের পরামর্শ: মাদরাসা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা কীভাবে কাটাবে করোনার ছুটি

  • পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছে - ২৪ মার্চ, ২০২০, মঙ্গলবার
  • 163 বার দেখা হয়েছে
  •  

    ওলিউর রহমান ।।

    চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে ৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক বেসরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কয়েকদিন আগেই।

    আপাতত ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ আবাস্থলে অবরুদ্ধ সময় কাটাচ্ছে। শিক্ষাবর্ষ সমাপ্তির আগে আগে করোনায় অবরুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কওমি মাদরাসার ছাত্ররাও পড়েছে বিশেষ বিপাকে। তাদের বার্ষিক পরীক্ষা ও বোর্ডের পরীক্ষা কখন অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে দেখা দিয়েছে নানা সংশয় এবং অনিশ্চয়তা।

    করোনা পরিস্থিতির কারণে অবসর সময়টুকু শিক্ষার্থীরা কীভাবে কাটাবেন; ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে কথা হয় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মারকাযুদ্দাওয়া আল ইসলামিয়া ঢাকার হাদিস বিভাগের শিক্ষক মাওলানা সাঈদ আহমাদ এবং রাজধানীর অপর পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদরাসা বাইতুল উলূম ঢালকানগরের নাযেমে তালিমাত ও মুহাদ্দিস মুফতি শাব্বীর আহমদের সাথে।

    মাওলানা সাঈদ আহমাদ ইসলাম টাইমসকে বলেন, তালিবে ইলম তো তার প্রতিটি সময়ই কাটাবে মুতালায়ায়। তার সার্বক্ষণিক ফিকির থাকবে পড়াশোনা কেন্দ্রিক। অবসর সময়গুলোও পড়াশোনা কেন্দ্রিক ব্যস্ততায় কাটানো উচিত প্রতিটি তালেবে ইলমের। আর বর্তমান পরিস্থিতি তো আসলে ছুটি না। এটা তো পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ রাখা। শিক্ষাবর্ষের সমাপ্তির সময় মাদরাসায় থাকলে যেমন পূর্ণ ইনহিমাক ও মনোযোগের সাথে মুতালায়া করা হতো বাড়িতেও তালিবে ইলমদের সেভাবেই মুতালায়ায় নিমগ্ন থাকা উচিত। একটি মুহূর্ত সময় যাতে নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে তালেবে ইলমের নিজের দায়িত্ববান হওয়া উচিত এবং অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে নজরদারি করা প্রয়োজন।

    এরই সাথে যোগ করে মাওলানা শাব্বীর আহমদ ইসলাম টাইমসকে বলেন, কওমি মাদরাসার ছাত্রদের তো বার্ষিক পরীক্ষা বাকি রয়ে গেছে। যারা বোর্ডে পরীক্ষা দিবে তাদেরও কেন্দ্রীয় পরীক্ষা বাকি। সুতরাং মাদরাসার ছাত্রদের নিজ দায়িত্বেই পড়াশোনায় মশগুল থাকা উচিত। বার্ষিক পরীক্ষা তো আসলে সারা বছরের পড়াশোনার চূড়ান্ত পরিণতি। ছাত্ররা সারা বছর যা পড়েছে, পড়াশোনায় যে অসঙ্গতিগুলো রয়ে গেছে সেগুলো শুধরে নেওয়ার জন্যই বার্ষিক পরীক্ষা। তাই ছাত্রদের উচিত পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য বাড়িতে এক মুহূর্ত সময়ও নষ্ট না করা।

    মুফতি শাব্বীর আহমদ আরও বলেন, তবে পরিস্থিতির চাহিদা হিসেবে পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন থাকাও প্রতিটি ছাত্রের জন্য বরং প্রতিটি মানুষের জন্যই একান্ত জরুরী। অতীতের যাবতীয় গোনাহের জন্য একনিষ্ঠভাবে তাওবা, ইসতেগফার এবং করোনা থেকে আত্মরক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়া করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিদরা যে সতর্কতা ও সচেতনতার কথা বলেছেন সেগুলো যথাযথভাবে পালন করা উচিত।

    জেনারেল শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিতে গিয়ে মারকাযুদ্দাওয়াহর শিক্ষক মাওলানা সাঈদ আহমাদ বলেন, করোনা পরিস্থিতির সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও উচিত নিজেদের পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি দ্বীনি বিষয়েও পড়াশোনা করা। এ মহামারী আমাদের চোঁখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগেও আমরা কত অসহায়। তাই দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তন করা সকলের জন্য জরুরী। দ্বীন বুঝার জন্য এই ছুটিটাকে সাধারণ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কাজে লাগাতে পারেন। পরিচিত কোনো আলেমের সাথে যোগাযোগ করে দ্বীনি রচনাবলী পাঠ হতে পারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য করোনা পরিস্থিতির অবসর সময় কাটানোর সুযোগ।

    সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই সময়ে দ্বীনি কী বিষয়ে পাঠ করতে পারেন জানতে চাইলে মুফতি শাব্বীর আহমদ বলেন, ‘ফিকহি জরুরী মাসায়েল থেকে শুরু করে সিরাত এবং সাহাবিদের জীবনীগ্রন্থ, ইসলামের ইতিহাস, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসব বিষয় পাঠ করতে পারেন। তবে দুর্ভিক্ষ মা মহামারীকালীন সময়ে হাকিমুল উম্মত থানভী রহ. সিরাত পাঠের ব্যাপারে অধিক মনোযোগ দিতেন। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা নির্ভরযোগ্য সিরাতগ্রন্থ বেশি বেশি পাঠ করতে পারেন’।

    করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের অসহায়ত্ব গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে, গোনাহ থেকে তওবা করে এখন আমাদের উচিত আল্লাহর দিকে, দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তন করা।

    আল্লাহ তাআলা পৃথিবী থেকে শিগগিরই এ অচলাবস্থা কাটিয়ে নিন। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের মুসলমানদের তিনি হেফাজত করুন

    সূত্র, ইসলাম টাইমস

    
    এই পোস্টে কোন মন্তব্য নেই!

    একটি মন্তব্য করুন


    অ্যাকাউন্ট প্যানেল

    আমাকে মনে রাখুন

    সকল বিভাগ